শীর্ষ খবর

কারোরই স্থান হয়নি কেন্দ্রে!

২১তম জাতীয় কাউন্সিল থেকে দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা হয়নি সিলেটের প্রভাবশালী চার নেতার।

সদস্য সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সদ্য সাবেক কমিটির সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির সদ্য সাবেক দুই নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আসাদ উদ্দিন আহমেদ কারোরই স্থান হয়নি কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

সম্প্রতি সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্ব হারিয়েছেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, শফিকুর রহমান ও আসাদ উদ্দিন আহমেদ। জেলা ও মহানগর কমিটিতে পদ হারালেও তারাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধারনা ছিল কেন্দ্রীয় কমিটিতে মূল্যায়িত হবেন সিলেট এই তিন নেতা। কিন্তু শনিবার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ঘোষিত কমিটিতে তাদের কারও জায়গা হয়নি। এমনকি সিলেটের আরেক নেতা আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজও কমিটিতে জায়গা পাননি।

এক সময় সিলেট আওয়ামী লীগে ছিলেন ‘চার খলিফা’। দলের পদ হারানোর পর প্রয়াত হয়েছেন এই চার খলিফার দু’জন আ.ন.ম শফিকুল হক ও ইফতেখার হোসেন শামীম। আরেক খলিফা মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ চলে গেছেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। শেষ পর্যন্ত খলিফা কামরানের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেলো।

১৯৬৮ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত কামরানের নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু ১৯৭৩ সালে ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হয়ে। ১৯৮৯ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে শহর আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দেওয়া হয় কামরানকে। হন সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯২ সালে এবং ১৯৯৭ সালে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে প্রথমবারের মত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন কামরান। ২০০৫ এ সম্মেলনের মাধ্যমে এবং ২০১১ সালে গঠিত কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের পুনরায় সভাপতির হন সদাহাস্য এই নেতা। প্রায় তিন দশক পর এবারই সিলেটে কামরানবিহীন কমিটি করলো আওয়ামী লীগ।

টানা তিন মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন সিলেটের আরেক নেতা মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এবার এখন পর্যন্ত এই পদেও নিয়োগ পাননি তিনি, যদিও এখনও তিন সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ খালি রেখেছে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলটি।

গত আট বছর ধরে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। কর্মীবান্ধব হিসেবে পরিচিত এই নেতা সদ্য সমাপ্ত সম্মেলনে পদ হারান। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা আসাদ উদ্দিন আহমদকে সরানোতেও অবাক হয়েছেন অনেকে। এই দুই নেতাকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মূল্যায়িত করা হবে এমন আশা ছিল তাদের অনুসারীদের। তবে এখন পর্যন্ত তারা মূল্যায়িত হননি।

এদিকে, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ফাঁকা রয়েছে কোষাধ্যক্ষ, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, তিনটা সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ, উপ-প্রচার এবং উপ-দপ্তর সম্পাদকের পদ।

আরও সংবাদ

Close