সারা বাংলা

তৃতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা

স্বামীর তৃতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছেন স্বামী মো. হাজিবুল। শুধু তাই নয় সম্প্রতি  সিজার হওয়া ওই নারীর সেলাই করা পেটে লাথিও মারেন তার স্বামী। এতে রক্তক্ষরণ হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় মল্লিকপুর গ্রামে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মনি আক্তার (৩০) নামের গৃহবধূ। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুপুরের দিকে বারহাট্টা হাসপাতালে ভর্তি করান।

নির্যাতিতা গৃহবধূ মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর বরহাটি গ্রামের মৃত আ. বারেক তালুকদারের মেয়ে। আর অভিযুক্ত হাজিবুল মল্লিকপুর গ্রামের মৃত খুরশেদ মিয়ার ছেলে।

নির্যাতিতা মনি জানান, হাজিবুল প্রথমে আমার বড় বোন নাসিমাকে বিয়ে করেন। তিনটি সন্তান রেখে বোন মারা যান। বোনের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বিবেচনা করে ১১ বছর আগে বোনের স্বামী হাজিবুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমাকে বিয়ে দেয়া হয়। তারপর থেকেই হাজিবুল কাজের জন্য ঢাকায় চলে যায়।

আমার তেমন খবর নিত না। আমি বেশির ভাগ সময় বাবার বাড়িতে থাকতাম। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসতো সে। এর মধ্যে গত ৯ অক্টোবর সিজারে আমার একটি কন্যা সন্তান জন্ম লাভ করে। সিজারের খরচপাতিও বাবার বাড়ির লোকজন বহন করেছে। আমার স্বামী কয়েকদিন আগে নতুন বউ নিয়ে বাড়িতে আসে। এর প্রতিবাদ করায় আমার উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। আজ (মঙ্গলবার) সকালে আমাকে কিলঘুষি শুরু করে।

সিজারের সেলাই করা পেটে লাথি মারলে রক্তক্ষরণ হয়। একপর্যায়ে সিগারেট দিয়ে আমার মুখে ছ্যাঁকা দেয়। পরে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে।

নির্যাতিতার ফুফাতো ভাই নুরুজ্জামান কাঞ্চন এ ঘটনায় বারহাট্টা থানায় মামলা করবেন বলে জানান।

বারহাট্টা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ দিতে নির্যাতিতার লোকজন থানায় এসেছে। অভিযোগ লেখা প্রক্রিয়াধীন এবং এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

আরও সংবাদ

Close