আন্তর্জাতিকশীর্ষ খবর

ইউক্রেনের দুই অঞ্চলকে রাশিয়ার স্বাধীনতার স্বীকৃতি : বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এ ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখে গেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ইউক্রেনকে ভেঙে দ্বিখণ্ডিত করার অভিযোগে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা মিত্ররা। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা প্রভাব-বিরোধী কিছু শক্তিকে পাশে পাচ্ছে মস্কোও।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক, ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র : পুতিনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। লুহানস্ক-দোনেৎস্ককে মস্কো স্বীকৃতি দেওয়ার পর তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে শিগগির দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।

যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, রাশিয়ার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং মিনস্ক চুক্তির লঙ্ঘন। এর জন্য রাশিয়ার ওপর একঝাঁক নিষেধাজ্ঞা দেওয়াসহ ইউক্রেনের জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

জার্মানি : জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডনার বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে পুতিন রুশ জনগণ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছেন। এটি ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে।

ন্যাটো : ন্যাটো প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে রাশিয়ার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। এটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সংঘাতের সমাধান প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করে।

ইউরোপীয় কমিশন : ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, ইইউ ও এর অংশীদাররা ঐক্যবদ্ধভাবে ও ইউক্রেনের সঙ্গে সংহতি রেখে শিগগির শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।

জাতিসংঘ : জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেছেন, রাশিয়ার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করেন গুতেরেস।

চীন : রাশিয়ার অন্যতম প্রধান মিত্র চীন অবশ্য সরাসরি কারও পক্ষ নেয়নি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন বলেছেন, অনেক জটিল বিষয়ের ফলাফল হচ্ছে ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি। এ অবস্থায় উত্তেজনা না বাড়াতে সব পক্ষকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

ইরান : ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সায়িদ খতিবজাদেহ বলেছেন, ইউক্রেন পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ‘দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটোর হস্তক্ষেপ ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। উত্তেজনা বাড়তে পারে এমন পদেক্ষেপ থেকে বিরত থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

তুরস্ক : পূর্ব ইউক্রেনের দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় রাশিয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, স্বঘোষিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেওয়ায় রাশিয়ার সিদ্ধান্ত শুধু মিনস্ক চুক্তিই নয়, ইউক্রেনের রাজনৈতিক ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতারও স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ফ্রান্স : ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে রাশিয়া তার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। আমি এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক ও ইউরোপের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাপান : জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে রাশিয়ার পদেক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না। সেখানে আক্রমণ হলে আমরা জি৭ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞাসহ জোরালো প্রতিক্রিয়া জানাবো।

অস্ট্রেলিয়া : পূর্ব ইউরোপে পাঠানো সেনারা ‘শান্তিরক্ষী’- পুতিনের এমন দাবিকে ‘ফালতু কথা’ বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। যারা ‘নিজেদের স্বার্থে সহিংসতার হুমকি দেয়’, তাদের বিরুদ্ধে সমমনা সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নিকারাগুয়া : ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা। দোনেৎস্ক-লুহানস্কের মস্কোপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বীকৃতি দিয়ে পুতিন ‘ঠিক কাজ’ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ভারত : ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে সব পক্ষকে ‘সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে ভারতের রাষ্ট্রদূত টি এস ত্রিমূর্তি। তিনি বলেছেন, এখন সবার আগে উত্তেজনা কমানো এবং সব দেশের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও সংবাদ

Close