সারা বাংলা
শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

প্রয়াত এক শিক্ষকের স্মরণে ২ মিনিট নিরবতা পালন করতে গিয়ে ভোলার লালমোহনে ‘পাঙ্গাশিয়া স্কুল এণ্ড কলেজ’র জুতা পায়ে রেখেই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে যান শিক্ষক-শিক্ষার্থী। পরে সেই ছবি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু ইউসুফ। এতে কমেন্টসের মাধ্যমে শুরু হয় নিন্দা। অবশ্য পরে ওই পোস্টটি ডিলেট করে পুনরায় ছবি পোস্ট করেন তিনি। তবে এ ছবিটির নিচে পায়ের অংশ কেটে দেন তিনি।
জানা যায়, রোববার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের ‘পাঙ্গাশিয়া স্কুল এন্ড কলেজ’ এর প্রয়াত শিক্ষক বাবু জগন্নাথ চন্দ্র বেপারীর স্মরণে প্রতিষ্ঠানের এসএসসি শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন শহীদ মিনারে দুই মিনিট নিরবতা পালন করেন অধ্যক্ষ ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফসহ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকরা।
পরে ওই স্মরণ অনুষ্ঠানের ছবি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ। ছবিতে দেখা যায়, তিনিসহ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ও এসএসসি’র শিক্ষার্থী সকলেই পায়ে জুতা পড়ে আছে।
এর পরপরই কমেন্টসের মাধ্যমে নিন্দা শুরু করে ফেসবুকাররা।
এমডি হান্নান নামের একজন কমেন্টস করেন, শহীদ মিনারে কি সবাই জুতা নিয়ে ওঠে?
এমডি রিপন খান নামের একজন কমেন্টস করেন, শহীদ মিনারের অবমাননা করে এ কেমন শ্রদ্ধা!! সবাই জুতা পায়ে কেন?
গিয়াসউদ্দিন নামের একজন কমেন্টস করেন, বাহ ভাল তো শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে উঠে আবার সম্মান প্রদর্শন খুবই ভালো তালি হবে স্যারদের জন্য।
খান আজিম লিখেছেন, এটা হলো ডিজিটাল মার্জিত আরাধনা।
হৃদয় খান লিখেছেন, শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে উঠা যায় না স্যার আমরা সবাই বাবু জগন্নাথ চন্দ্র বেপারী স্যার কে স্মরণ ও শ্রদ্ধা করি।
ওয়াহিদুর রহমান জুলহাস নামের একজন কমেন্টসের মাধ্যমে ওই ছবি ডিলেটের আহবান জানিয়ে লিখেন, জুতা পায়ে শহীদ মিনারে, সম্মানের চেয়ে অসম্মানই বেশী হবে।
ফয়সাল আহমেদ সবুজ লিখেছেন, গ্রেট ইনএকটিভ ফর ওনারেবল চেয়ারম্যান।
এছাড়াও নিন্দা জানিয়ে আরও অনেক কমেন্টস ছিল। তা দেখে পরে পোস্টটি ডিলেট করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ বলেন, আমরা শহীদ মিনারের নিচে ছিলাম।